শাপলা প্রতীকের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া বিকল্প প্রতীক তারা নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দলটি।

রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে নির্বাচন কমিশন একটি স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে এই সিদ্ধান্তগুলো আসলে চাপিয়ে দেওয়া। প্রতীক বাছাইয়ে ইসির চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান ইসির প্রতীক বরাদ্দে কোনো নীতিমালা নেই। ইসির মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক অটোক্রেসি তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখন স্পাইনলেস (মেরুদণ্ডহীন) প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

এনসিপির মুখ সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা ইসিকে একটি লিখিত জবাব দিয়েছি। তাতে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে—দেড় কোটি মৃত ও প্রবাসী ভোটার বাদ দেওয়া, দলীয় কর্মকর্তা ও দুর্নীতিগ্রস্তদের অপসারণ, প্রতীক বাছাইয়ে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন এবং এসব না হলে ইসির পদত্যাগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো আশাবাদী, শাপলা প্রতীকই পাব।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের জন্য ৫০টি প্রতীক দেওয়া হয়েছে—বেগুন, খাটসহ বিভিন্ন প্রতীক। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছি, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি।’

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, ‘ইসি আইনগতভাবে কোনো দলকে জোর করে প্রতীক দিতে পারে না। আমরা ইসিকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনসিপি প্রতীক না বাছাই করলে কমিশন নিজস্ব পদ্ধতিতে প্রতীক বরাদ্দ দেবে। তবে এনসিপি বলেছে, কোনো চাপিয়ে দেওয়া প্রতীক তারা গ্রহণ করবে না।

উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপিসহ দুটি নতুন দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে শাপলা প্রতীক তালিকায় না থাকায় এনসিপির দাবি এখনো মেনে নেয়নি ইসি।

ম্যাংগোটিভি/আরএইচ

Share.
Exit mobile version