ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী সালেম বিন ব্রেইকের পদত্যাগ গ্রহণ করেছে দেশটির সৌদি আরব–সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিন্দানিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সালেম বিন ব্রেইক আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল তা অনুমোদন করে এবং নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব শায়া মোহসেন জিন্দানির ওপর ন্যস্ত করে।
এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার পথ তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ইয়েমেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি পর্যন্ত অগ্রসর হয়।
এই পরিস্থিতিকে রিয়াদ তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। পরবর্তীতে সৌদি আরব–সমর্থিত যোদ্ধারা ওই এলাকাগুলোর অধিকাংশ পুনর্দখল করে নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনীতি, তেল উৎপাদন ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারসহ একাধিক ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য এই টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একসঙ্গে একটি সামরিক জোটে কাজ করেছিল। দীর্ঘদিনের সেই সংঘাতের ফলেই ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিপতিত হয়েছে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

