যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেশজুড়ে চার হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অন্তত ২ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে তুষারপাত, তুষারবৃষ্টি ও হিমশীতল বৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপজ্জনক মাত্রায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার থেকে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের তিন-চতুর্থাংশ রাজ্যের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে যেতে পারে।

এই তুষারঝড়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, টেনেসি, জর্জিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, মেরিল্যান্ড, আরকানসাস, কেনটাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা ও পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ফেডারেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে এমন সব রাজ্যের পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সবাইকে নিরাপদ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ১৭টি রাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় আবহাওয়াজনিত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

ডিএইচএস সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোতে এখনও কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ইউটিলিটি কর্মীরা কাজ করছেন।

এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ একটি জরুরি আদেশ জারি করে। এতে টেক্সাসের ইলেকট্রিক রিলায়েবিলিটি কাউন্সিলকে রাজ্যে ব্ল্যাকআউট সীমিত করতে ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাকআপ জেনারেটর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, এই দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত শীতকালীন ঝড়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ও ভারী বরফ জমতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নাগাদ গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে এবং বাতাসের তীব্রতায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version