চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ ১৪তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর—সাক্ষ্যগ্রহণ পরিচালনা করছেন।
আজ একজন নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি শোনার কথা থাকলেও আগের সাক্ষী পুলিশের নায়েক আবু বকর সিদ্দিকের জেরা অসম্পন্ন থাকায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁর জেরা সম্পন্ন করবেন। গত ১৩ নভেম্বর তিনি ১৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ঘটনার আগে ও পরের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম, সাইমুম রেজা তালুকদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।
এর আগে এসআই (সশস্ত্র) মো. আশরাফুল ইসলাম, কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ এবং বেরোবি শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় ১৩ অক্টোবর, ২১ অক্টোবর ও ৪ নভেম্বর তিন দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়।
৬ অক্টোবর মামলার নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে দুই এসআই রফিক ও রায়হানুল রাজ দুলাল জবানবন্দি দেন। এর আগে ২৮ আগস্ট নিহত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এবং সাংবাদিক মঈনুল হক সাক্ষ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার ৬ আসামি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। অন্যদিকে সাবেক ভিসিসহ বাকি ২৪ আসামি পলাতক। তাদের পক্ষে আদালতের নির্দেশে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মোট ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে মামলার বিচার এগোচ্ছে। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণে বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোবে বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
