ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে করা ‘শিশু জিহাদ হত্যা’ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সবাইকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২০ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
অব্যাহতি পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পুলিশ জানায়, তদন্তে ভুক্তভোগীকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যত্র আহত হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, যা পরে ‘তথ্যগত ভুলে’ ভরা বলে প্রমাণিত হয়। এ কারণে গত বছরের ১১ আগস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
পরে গত বছরের ৩০ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে—‘হত্যা’ দাবি করা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত। তিনি আদালতে নিজেই জানিয়েছেন, তিনি কেবল আহত হয়েছেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার প্রকৃত স্থান ছিল ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা। অথচ মামলায় কেরানীগঞ্জের বছিলা ব্রিজ এলাকা উল্লেখ করা হয়, যা মামলার বড় অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো এবং ঘটনাস্থল ভুল উল্লেখ-এই দুই বড় ভুলের কারণেই মামলাটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাজারীবাগে প্রকৃত ঘটনার প্রেক্ষিতে নতুন করে মামলা হয়েছে এবং সেটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ


