ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯১ জন। এছাড়া অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের হিসাবে শত কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন ২৭ জন। ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজজামান।

নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ কোটি টাকা

টিআইবির তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত মোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা। প্রতিজন প্রার্থীর গড় ব্যয় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঘোষিত ব্যয়ের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় দেখিয়েছে বিএনপি—১১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, যাদের মোট ব্যয় ৮০ দশমিক ৬ কোটি টাকা। নির্বাচনে মোট প্রার্থী প্রায় দুই হাজার।

মামলা ও ঋণের চিত্র

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা—৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে জাতীয় পার্টি—২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যাংক ঋণ ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

দল ও প্রার্থীর সংখ্যা

টিআইবির তথ্যে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। এতে মোট চূড়ান্ত প্রার্থী ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ইসলামপন্থি দল ও পেশাভিত্তিক তথ্য

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর, যা গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী ব্যবসায়ী। আইন পেশার প্রার্থী ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শিক্ষক ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৫৯ জন প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি। এছাড়া ১১৮ জন প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট বেশি এবং ১৬৪ জনের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ বেশি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version