বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা। তার অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। রাতভর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন অনেক নেতা–কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ মানুষ। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করেন লাখো মানুষ। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের গুজব, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

জানা গেছে, ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। পরে দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর পাশাপাশি তার রয়েছে পুরোনো কয়েকটি জটিলতা-লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস। চিকিৎসকদের মতে, একটি জটিলতার চিকিৎসা শুরু করলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেল বোর্ড দ্রুত সিঙ্গাপুরে তার উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

শুক্রবার রাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া চান। বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম জিয়া জাতির জন্য অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি রাখতে চাই না; সব ধরনের সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত।

রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানান, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটজনক। তার অসুস্থতার প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের মনোযোগ ও খোঁজখবর রাখায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

গভীর রাতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলের অন্য নেতারা। আসিফ নজরুল তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। দোয়া করবেন।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও ফেসবুকে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুজব ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বের হয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘ম্যাডামের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে। গুজব শুনে মন মানছিল না, তাই এসেছি।’

মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ
রাত ১২টার পর হাসপাতালে দাঁড়িয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল বোর্ড তার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে। প্রয়োজনীয় সবকিছুই তারা করছেন। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

গভীর রাতে হাসপাতালে এসে মির্জা আব্বাস বলেন, ম্যাডাম আমাদের চিনতে পেরেছেন, সালামের উত্তর দিয়েছেন। দেশবাসী তার জন্য দোয়া করুন।

হাসপাতাল এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকলে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি সবাইকে দূর থেকে দোয়া করতে ও ভিড় এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান।

এদিকে দুপুরে নয়াপল্টন জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ
লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি মেডিকেল বোর্ডের আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৭ নভেম্বর দুপুরে নিউমোনিয়া দেখা দিলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয় ।দেশজুড়ে এ মুহূর্তে কেবল একটাই প্রার্থনা—খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য।

Share.
Exit mobile version