বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামো ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অব ভুটান লিমিটেডের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তিন দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিদর্শন করেছে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন-মিসেস খানদু ওয়াংমো, মিস দর্জি জঙ্গম, মি. জ্যাংচুক ওয়াংদি এবং মিস পেমা ইয়াংছেন।
ডিএসই’র কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার নূর-ই হাফসার সহযোগিতায় তারা ডিএসই’র বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শন অনুষ্ঠানে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার পিয়ার ইকোনমিগুলোর (বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান) মধ্যে প্রযুক্তি ও বাজার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাজার কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার মূলত ইক্যুইটিভিত্তিক হলেও এসএমই ও এটিবি মার্কেটের মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করছে ডিএসই। প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হলে উদ্যোক্তা ও বাজার উভয়ই উপকৃত হবে।
পরে ডিএসই’র প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগ প্রধান সাইদ মাহমুদ জুবায়ের একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামো, ট্রেডিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার অটোমেশন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (রিইট), ডেরিভেটিভস, ইসলামিক পুঁজিবাজার এবং অ্যাসেট–ব্যাকড সিকিউরিটিজ চালুর অগ্রগতি তুলে ধরেন।
ডিএসই’র রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া পুঁজিবাজারের আইনগত কাঠামো, তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
আইসিটি ডিভিশনের উপমহাব্যবস্থাপক হাসানুল করিম ডিএসই টাওয়ারের ডেটা সেন্টার, ক্লিয়ারিং-সেটেলমেন্ট সিস্টেম, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, মার্কেট ডাটা সার্ভিস এবং ম্যাচিং ইঞ্জিনসহ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
সফর শেষে প্রতিনিধিদল ডিএসই-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, এই সফরটি তথ্যবহুল ও অভিজ্ঞতামূলক ছিল। এর মাধ্যমে তারা আধুনিক স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে জ্ঞান বিনিময় ও কারিগরি সহযোগিতার সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
পরিশেষে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও এমডি (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস বলেন, ‘ভুটানের পুঁজিবাজার উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ডিএসই আগ্রহী। এই সহযোগিতা উভয় দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।’

