আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) থাইল্যান্ডের প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে এই তেল কেনা হবে। দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহনসহ অন্যান্য সব খরচ যোগ করে প্রতি লিটারের দাম দাঁড়াবে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রমজানে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তেল খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে এবং কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হবে। ফলে এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
এদিকে, একই বৈঠকে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকিমূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে চট্টগ্রামের এম/এস পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি কেজি ৭১ টাকা ৮৭ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল আমদানির এই উদ্যোগ রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
