মালয়েশিয়ার সদ্য কার্যকর হওয়া আবর্জনাবিরোধী আইনের অধীনে আবর্জনা ফেলার দায়ে আদালতে অভিযুক্ত প্রথম দুই বিদেশির মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। অপরজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। বাংলাদেশি নাগরিক সুলতান এমডি (২৮) এবং ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক আনিতা লুকমান (৪৯) নববর্ষের প্রথম দিনে জোহর বাহরুর শহর এলাকায় পৃথক ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে তাদের জোহর বাহরুর সেশন কোর্টে হাজির করা হয়।

আদালতে আনিতা লুকমান-যিনি খণ্ডকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন-স্টুলাং লাউতের জালান ইব্রাহিম সুলতান এলাকায় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে ফুটপাথে সিগারেটের টুকরা ও একটি পানীয়ের বোতল ফেলে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার না করায় তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট-এর ৭৭এ(১) ধারায় মামলা করা হয়।

আইনজীবী ছাড়াই আদালতে হাজির হয়ে আনিতা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তিনি তার দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানের একমাত্র উপার্জনকারী। জরিমানা দিতে না পারলে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিতি আদোরা রাহতিমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তার ভাষ্য, এ ধরনের শাস্তি জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

শেষ পর্যন্ত বিচারক নর আজিয়াতি জাফার আনিতাকে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ছয় মাসের মধ্যে ছয় ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিস সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ১০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে একই এলাকায় রাত ১টা ২৭ মিনিটে ময়লা ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হন কারখানা শ্রমিক সুলতান এমডি। অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে না পারায় তিনি বাংলা ভাষার দোভাষী চান। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৭-এর সংশোধিত বিধান চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। এ আইনে আবর্জনা ফেলার অপরাধে সর্বোচ্চ ২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কমিউনিটি সার্ভিসের বিধান রয়েছে। সূত্র: ইয়াহু

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version