অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না। দলমত নির্বিশেষে গঠিত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দেশের গণতন্ত্র ও সংস্কার কার্যক্রম টেকসইভাবে এগিয়ে যাবে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আর কোনো শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
ড. ইউনূস স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে। কিন্তু বিগত পাঁচ দশকে বারবার সেই অধিকার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, যা জনগণকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বারবার ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো পালিত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর বার্ষিকী, যেখানে তরুণ সমাজ স্বৈরাচারকে পরাভূত করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেই অভ্যুত্থান বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশে পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকলেও সরকার বেছে নিয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রক্রিয়া। এজন্য বিচার বিভাগ, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ ১১টি খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির জন্য ৩০টিরও বেশি দল ও জোটকে নিয়ে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে সব দল একসঙ্গে ‘জুলাই ঘোষণা’ দেয়, যা সংস্কার কার্যক্রমে সময়াবদ্ধ অঙ্গীকার নিশ্চিত করেছে। ড. ইউনূস বলেন, আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না।
তিনি আরও জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

