রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রেস্তোরাঁ কর্মী মো. মিলন মল্লিক (২৪) পালিয়ে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন মল্লিক জানান, ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন এবং পরিবারের সদস্যরা বাসা থেকে গ্রামে গেলে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে তিনি ফাতেমাকে সঙ্গে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেন।
তবে ফাতেমা এতে রাজি না হয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রত্যাখ্যানের কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
র্যাব আরও জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনে অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে ফাতেমা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে খিলগাঁও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সময় ওই বাসায় মিলন মল্লিককে ঢুকতে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে দক্ষিণ বনশ্রীর ওই বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন, যেখানে অভিযুক্ত মিলন মল্লিক কর্মরত ছিলেন।
