বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎসের একটি প্রবাসী আয় বাড়লেও পণ্য রফতানি আয়ে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে টানা পাঁচ মাস ধরে রফতানি কমায় দেশের সামগ্রিক পণ্য রফতানি আয় প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৫৩ কোটি ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ২ দশমিক ১৯।
ইপিবি জানায়, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রফতানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও এরপর টানা পাঁচ মাস রফতানি নিম্নমুখী থাকে। শীর্ষ পাঁচটি খাতে রফতানি কমে যাওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ।
রফতানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশি পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। উল্টো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে বাজার ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারত বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করায় সে দেশেও রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রফতানিকারকদের অভিযোগ, দেশীয় ব্যাংক খাতে ঋণসংকোচন ও কঠোর নীতির কারণে অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাচ্ছেন না, যা রফতানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি সেবা খাতে মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পরিবহন, বন্দর ও অন্যান্য সেবার খরচ বৃদ্ধিতে রফতানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বাজারের চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক প্রতিবন্ধকতা এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে দেশের পণ্য রফতানি খাত এখন তীব্র চাপের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

