আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা বা শৈথিল্য দেখা গেলে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাদের আওতাধীন সব অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাটি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর বা নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য কিংবা ভুল তথ্য প্রদানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের আইনের ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী সরকার বিধি মোতাবেক শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন জানান, গত ৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের সব অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাউশি, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ ও এনসিটিবিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে প্রশ্নাতীত করতে চায়। এ জন্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই জাতীয় দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না বলেও পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version