দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী থাই প্রদেশ সি সা কেতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুই থাই সেনা আহত হন।
থাই সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কম্বোডিয়ার সেনারা সি সা কেত সীমান্ত লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন থাই সেনার পায়ে গুলি লাগে এবং আরেকজন বুকে আঘাত পান। ঘটনাৎই পাল্টা জবাব দেয় থাইল্যান্ডের সেনারা। প্রায় ৩৫ মিনিট, অর্থাৎ স্থানীয় সময় ২টা ৫০ পর্যন্ত এই গোলাগুলি চলতে থাকে।
সংঘর্ষ থামার পরপরই কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের চার প্রদেশ—বুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত ও উবন রাতচাথানি—থেকে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয় থাইল্যান্ড। অভিযোগে বলা হয়, সীমান্তের ভেতরে থাই ভূখণ্ডে বড় আকারে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে কম্বোডিয়া। এসব মাইন বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন থাই ও চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তে জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছিল ব্যাংকক।
থাইল্যান্ডের অভিযোগের কিছু সময় পরই সি সা কেতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।
সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৫ বছরের যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। পাঁচ দিনব্যাপী সেই সংঘাতে দুই দেশের মোট ৩২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ফের কার্যকর হয়।
