টানা কয়েক কার্যদিবসের নিম্নমুখী প্রবণতা কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৫ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৩ দশমিক ৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৬ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডিএসই-৩০ সূচকও ৩৩ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৭ দশমিক ৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই উত্থান বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মত দিয়েছেন।
এদিন ডিএসইতে ৩৯০টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৪৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২১টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর বৃদ্ধি বাজারের সামগ্রিক চিত্রকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দিন শেষে ডিএসইতে ৭১১ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন ছিল ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেন বৃদ্ধির এই প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও। সেখানে ১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৫টির দর বেড়েছে, ৪০টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫২ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের সপ্তাহের পতনের পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর যে ইঙ্গিত মিলেছিল, সোমবার তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি বাজারে আস্থার পুনরুদ্ধারের বার্তা দিচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে পুঁজিবাজার আরও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

