আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, গণভোট, প্রবাসী ভোট, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাসহ সব অগ্রগতির বিস্তারিত চিত্র কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়েককে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২৩ নভেম্বর) মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব বলেন, মহাসচিব নির্বাচন সংক্রান্ত সামগ্রিক প্রস্তুতি জানতে চান। ইসি জানায়,নির্বাচনের সরঞ্জাম প্রস্তুত হচ্ছে,প্রবাসী ভোটারদের জন্য ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে, ৫৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোটাধিকার পাচ্ছেন-এতে মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দেশের ভেতরে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ ভোটারকেও আইসিপিভির আওতায় ভোটদানের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা মহাসচিব ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

রেফারেন্ডাম (গণভোট) প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, মহাসচিব বলেছেন একই দিনে রেফারেন্ডাম আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বাড়তি দায়িত্ব। তবে ইসি যে প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আখতার আহমেদ আরও বলেন, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সংখ্যাগত তথ্য জেনে মহাসচিব প্রশংসা করেছেন। মৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে— এই উদ্যোগকেও তিনি ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কমনওয়েলথ মহাসচিব মিসইনফরমেশন ও ফেক নিউজের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সতর্ক থাকতে বলেছেন। এর জবাবে আমরা জানিয়েছি, গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারিত হবে।

বৈঠকে ইসি সচিব জানান, কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়েক বৈঠকে বলেছেন নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো জরুরি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রচার চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোও সহযোগিতা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

আখতার আহমেদ বলেন, মহাসচিব জানিয়ে দিয়েছেন ৫৬ সদস্য দেশের সংগঠন হিসেবে কমনওয়েলথ প্রয়োজন হলে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। ব্রিটেনের সহযোগিতা পাওয়ায় তিনিও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ইসি সচিব আরও বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হবে। মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন— তারা এসে নির্বাচনকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে ভূমিকা রাখবেন।

ইসি সচিব বলেন, এখনও পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা বা পাঠানোর সময় বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট হয়নি। প্রবাসী পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচন পর্যালোচনা করে তাদের অবস্থান জানাবেন।

কমনওয়েলথ মহাসচিব দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান। জবাবে ইসি জানিয়েছে, সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন— এই তিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, কমনওয়েলথ জিজ্ঞেস করেছে— আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চান? তবে আমরা এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলিনি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোথায় সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে কিছু সময় লাগবে।

ইসি সচিব আরও বলেন, আলোচনাটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং মহাসচিব আমাদের প্রস্তুতিকে সমর্থন ও আস্থা জানিয়েছেন। আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, এবারের নির্বাচন ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল ও পার্টিসিপেটরি হবে।

ম্যাংগেটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version