ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ সতর্কবার্তা দেন।
এরই মধ্যে তেহরানের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’-অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মামলা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা এমন কিছু করে, তাহলে আমরা অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেব। তারা ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এখন আবার ফাঁসির কথা শুনছি। দেখা যাক, এটি তাদের জন্য কীভাবে কাজ করে।’
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। এসব বিক্ষোভকে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘চেনা কৌশল’ অতীতের মতো এবারও ব্যর্থ হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতির মূল লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সামরিক হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, কয়েক রাত ধরে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে এবং পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের কাহরিজাক মর্গে সারি সারি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কালো ব্যাগে মোড়ানো এসব লাশের পাশে স্বজনদের নিখোঁজ প্রিয়জন খুঁজতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ আংশিকভাবে চালু হলেও তা কেবল আউটগোয়িং কলের জন্য সীমিত ছিল এবং সংযোগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল বলে জানিয়েছেন এএফপির এক সাংবাদিক।
এর আগে একই দিন ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানিদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে’ আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।’
তবে তিনি কোন বৈঠক বা কী ধরনের সহায়তার কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: এএফপি

