আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দিনাজপুরের গড়ে শহীদ ময়দানে ভোটের গাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু পাঁচ বছরের জন্য নয়, এটি আগামী ৫০ বছরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কারণ, এই নির্বাচনের সঙ্গে একটি গণভোট যুক্ত রয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি কোনো বাঁধাধরা নির্বাচন নয়। আগের নির্বাচনগুলো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে হলেও এবার নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। আমাদের কোনো দল নেই, আমরা সবার সরকার। সরকার হিসেবে আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেব না। সবার সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে এবং প্রকৃত যোগ্যরাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন।’
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ‘মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলেই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের দিন। যাকে ভোটাররা নির্বাচিত করতে চাইবেন—তিনি যে দলের, ধর্মের, বর্ণের বা গোষ্ঠীরই হোন না কেন—তাকেই আমরা বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন একটি প্যাকেজ হিসেবে থাকবে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। যারা সংস্কার চান, সংসদীয় গণতন্ত্র চান, ক্ষমতার ভারসাম্য চান এবং গুম-খুনের রাজনীতি বন্ধ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান-তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সংস্কারের দাবিতেই জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অঙ্গহানি হয়েছেন।’

