আমানতের মুনাফাসহ অর্থ ফেরতের দাবি এবং মূল আমানত থেকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফা কেটে নেওয়ার ঘোষণার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সদ্য একীভূত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এর আগে সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তা বাতিল করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমানতকারী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে আলোচনা শেষে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এ নিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিবসহ শীর্ষ পর্যায়ের অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম, তারল্য সংকট এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন কিছু আমানতকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন তারা কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ জোরদার করাই এই ব্যাংক গঠনের মূল উদ্দেশ্য। যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, সেগুলো হলো-ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version