বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে ভারত বাংলাদেশের জন্য কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়নি; বরং নানা ক্ষেত্রে সুবিধা নিয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের সহায়তা করেছিল। সে হিসাবে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা দিয়েছে কিছুই না, বরং নিয়ে গেছে অনেক।
তিনি বলেন, আমরা বিগত দিনে দেখেছি, তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিরা ভারতে গিয়ে দেন দরবার করেছে। কিন্তু দেশের জন্য কেউ ভাবেনি। যে সরকারই আসুক, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা সেতুর রাবার ড্যাম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ন্যায্য পানির হিস্যা আদায় এবং পার্শ্ববর্তী দেশের দাদাগিরির অবসানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর আগে সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রয়াত বিএনপিনেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের কবর জিয়ারত শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটা দল বিএনপিতে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা ফায়দা নিতে চায়। নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। দলে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না। আরেকটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এদের দ্বারা দেশের পরিবর্তন বা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
সমাবেশে প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনে এবার আমিনুল হকের ভাই শরিফ উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ দলেরর নেতাকর্মীরা।
