অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে রাজনৈতিক কলুষতা আনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। এখানে শিক্ষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে ‘শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আবরার জানান, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু এ খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ দীর্ঘদিন করা হয়নি। বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সামর্থ্যের মধ্যে থেকেও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, নুন আনতে পান্তা ফুরায়-এ অবস্থায়ও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল ও অবসর ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে এসব কার্যক্রম স্বেচ্ছাচারীভাবে পরিচালিত হওয়ায় বর্তমানে আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যে ব্যাংকে টাকা রাখা হয়েছিল, সেখানে এখন টাকা নেই। ফলে যথাসময়ে প্রাপ্য টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে চলতে হচ্ছে, বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও চরিত্র নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু অক্ষর জ্ঞান নয়-শিক্ষার্থীদের নৈতিকভাবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশ, দশ ও বিশ্বকে কিছু দিতে পারে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কীভাবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করতে চান অবশ্যই করবেন—কিন্তু শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনৈতিকভাবে কলুষিত করার কোনো মানে নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, সরকারের ওপর যারা বিশেষ সন্তুষ্ট, তাদের দেখভাল দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ। যারা সরকারকে চুষে খাবার সুযোগ পায়, আইনকে দুমড়ে-মুচড়ে টাকা বানায়-তারাই এ সন্তুষ্টির উৎস। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি করবেন না। লেজুরবৃত্তিতে লাভ আছে, কিন্তু তাতে প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায় না। যদি লেজুরবৃত্তি না করেন, তাহলে ভালো থাকবেন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন মাউশি ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকির মইনুদ্দিন, মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ বি. এম. আব্দুল হান্নান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম সাত্তার, অধ্যাপক রিজভী জামান, অধ্যাপক কাকলি মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
সেমিনারে বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা অংশ নেন।
