ঢাকা মেট্রোরেল চালুর এক বছরের মাথায় আবারও ফার্মগেটে পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে খুলে পড়া এ প্যাডের আঘাতে পথচারী আবুল কালাম (৩৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এর আগেও গত বছর একই এলাকায় বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছিল। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিয়ারিং প্যাড কী?
ডিএমটিসিএল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে— রাবার ও স্টিলের মিশ্রণে তৈরি আয়তকার বিয়ারিং প্যাড মেট্রোরেলের পিলার ও ভায়াডাক্টের মাঝের ঝাঁকুনি শোষণকারী অংশ। প্রতিটি পিলারে চারটি করে প্যাড বসানো হয়, যার ওজন প্রায় ১২০–১৫০ কেজি।
এটি কংক্রিটের ভায়াডাক্টকে পিলারের ওপর স্থিতিশীল রাখে এবং ঘর্ষণ, ক্ষয় ও স্থানচ্যুতি রোধ করে।
কেন খুলে পড়ছে?
এখন বড় প্রশ্ন-কয়েক শ টন ভরবাহী গঠনেও কেন প্যাড নীচে পড়ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকশাগত ত্রুটি,নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি, বাঁক ও উচ্চতার তারতম্য থাকা স্থানে বাড়তি চাপের এসব কারণ থাকতে পারে।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক মনে করেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা নির্মাণ বা নকশার ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। তিনি ঝুঁকি মূল্যায়ন (রেসকিউ অডিট) করার পরামর্শ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় প্যাড খসে পড়লেও, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। যাত্রীরা বলছেন, পর্যাপ্ত সতর্কতা নিলে আজকের প্রাণহানি ঠেকানো যেত। দুর্ঘটনার পর সেতু বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগের ঘটনার রিপোর্টও পুনঃপর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ
