১৯৬০ সালের পুরনো আইন বাতিল করে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ আনার উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই আইনে টিকিট কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি যদি নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা নেয় বা টিকিট মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে তাদের সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অতিরিক্ত অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও গ্রাউন্ড অপারেটরের ধার্যকৃত ফি, চার্জ, রয়্যালটি ও প্রিমিয়াম নির্ধারণে একটি অর্থনৈতিক কমিশন গঠন করা হবে। তবে কমিশনের সুপারিশ সরকার বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করবে না।
বেবিচকের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন আইনে মন্ত্রণালয়ের তদারকি ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় তাদের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা কমে যাবে। খসড়া অনুযায়ী, বেবিচক চেয়ারম্যান নিরাপত্তা ও সেবা সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করতে পারবেন, তবে বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
অন্যদিকে, অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে-কোনো রুটে একচেটিয়া ব্যবসা বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে বেবিচক চেয়ারম্যান জনস্বার্থে মূল্য নির্ধারণে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
এছাড়া, বিদেশি এয়ারলাইনগুলোকে বাংলাদেশে নিজস্ব কার্যালয় খুলে সরাসরি ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাবও খসড়ায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে তারা কেবল স্থানীয় জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ)-এর মাধ্যমে কাজ করতে পারে।
বিমান বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, যাত্রীদের স্বার্থে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো দরকার। আইনটি কার্যকর হলে টিকিট কারসাজি অনেকটাই কমবে।
নতুন অধ্যাদেশে গ্রাউন্ড অপারেটর ও গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (জিডিএস) নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যান তাদের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে পারবেন।
তবে বেবিচকের একটি অংশ বলছে, নতুন কাঠামোয় মন্ত্রণালয়ের প্রভাব এতটাই বাড়বে যে কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ
