Monday, September 21

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর দিনই আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে কতটা কমলো তেলের দাম

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে নভেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে।

অন্যদিকে, অক্টোবর সরবরাহের ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলারে।

এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে প্রায় ১৫৮ দশমিক ৯৯ লিটার থাকে। আর বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি মার্কিন ডলারের দাম প্রায় ১২৩ টাকা।

এই হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলারের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৫৬৪ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭৯ টাকা। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ১১০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭৬ টাকা।

তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের এই আনুমানিক দাম বাংলাদেশের পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়।

অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে পরিশোধন, পরিবহন, কর, শুল্কসহ বিভিন্ন খরচ যোগ হওয়ার পর খুচরা পর্যায়ের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারিত হয়।

তেলের সরবরাহে নজর

জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বরের এক নোটে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে। ২০২৫ সালের গড় সরবরাহের তুলনায় যা প্রতিদিন ৬১ লাখ ব্যারেল কম।

তবে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে নতুন করে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতির প্রভাব

তেলের বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে।

স্কাই লিংকস ক্যাপিটাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল তাকিয়েদ্দিনের মতে, তেলের দাম নির্ভর করবে রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার গতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

তার ভাষ্য, পরিস্থিতির অবনতি হলে অথবা জাহাজ চলাচলে আবারও সমস্যা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: সিএনবিসি

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version