Monday, September 7

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এতে শনিবার থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত এক দিনেরও কম সময়ে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই রকেট হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথিদের চারটি সূত্র জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের ৫৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ফলে উভয় পক্ষ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে, বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলে লড়াই তীব্র হয়েছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, হঠাৎ করে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় প্রাণহানিও বেশি হয়েছে।

রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে তারা। এলাকাটি হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাছে অবস্থিত।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধাকে আটক করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। তায়েজ ও লাহজের আশপাশেও সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ফের উত্তপ্ত ইয়েমেন

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে সংঘাতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছিল। ওই বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিক অস্ত্রবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও কয়েক বছর দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ দেখা যায়নি।

তবে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে নতুন করে লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে শুক্রবার অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালানো হয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব-এল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথিরা বড় ধরনের অভিযান চালানোর পর এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

বাস্তুচ্যুত প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মাত্র দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

হুথিরা এখনো রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version