Tuesday, September 1

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতি লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপের পরিকল্পনা ঘোষণার পর বুধবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপির।

পেজেশকিয়ান বলেন, এ পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না। যুদ্ধ করেও তারা কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। আগের মতোই সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

সংঘাতের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে দেশটির বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।

যুদ্ধের প্রভাবে দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এসব পদক্ষেপে সহযোগিতা না করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, ইরানের সামরিক কারখানা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এবার নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান ও নৌপরিবহণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতের চাপ মোকাবিলায় তাদের দুই বছরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ থাকার দাবি করলেও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার কোনো সময়সীমা আছে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প আলজাজিরাকে বলেন, তাঁর কোনো সময়সীমা নেই এবং তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

সংকট নিরসনে ইরানের বিপরীত পাশে থাকা ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা আসতে পারে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলে পরবর্তীতে একটি স্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেতে পারে।

তবে রেভল্যুশনারি গার্ডসের অভিযোগ, রাজস্ব ভাগাভাগিসংক্রান্ত এই সমঝোতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে।

সূত্র: এএফপি

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version