Wednesday, September 2

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যার তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও যানবাহন ভেসে গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৮ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক ঢলের পর বিদেশি পর্যটকসহ চার শতাধিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়, মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকসহ অন্তত ৩৪১ জন বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২৯১ জন বিদেশি ও ১০০ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৩৯১ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং তারা নিরাপদে আছেন কি না, তা যাচাইয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নুওয়াকোট জেলার শিক্ষক সুমন চালিসে বলেন, তিনি নিজের চোখে পানির প্রবল স্রোতে আট থেকে নয়টি ট্রাক, ঘরবাড়ি ও মানুষকে ভেসে যেতে দেখেছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেননি বলেও জানান তিনি।

নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী।

এদিকে বন্যার কারণে দেশটির বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের ভূ-তথ্য বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠার ধারণা, ভূমিকম্পের কারণে নেপাল অংশে পাথর ও বরফের ধস নেমে লেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই বাধ ভেঙে যাওয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version