Monday, August 10

হুমকি ও সামরিক চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র সরদার মোহেবি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি তার ওপর নির্ভর করছে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিলেই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে একটি সাধারণ সমঝোতা কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ কিংবা ভূখণ্ড সম্প্রসারণ চায় না। তবে কোনো পক্ষের জবরদস্তি বা হুমকির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছানোর দাবি করেছে ইরান। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ তৈরির চেষ্টা করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতার পাঁচ নম্বর ধারা বাস্তবায়নের পর এক মাসের মধ্যে পণ্যবাহী নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। তার দাবি, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রণালিতে ৬০ শতাংশ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা মক্কায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version