Monday, September 28

ইরানে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। সে সময় তিনি ইরানের জনগণকে বিনামূল্যে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস।

ইরানওয়্যার-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট সক্রিয় রয়েছে—এমন দাবি থাকলেও বাস্তবে দেশটির ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বর্তমানে স্টারলিংক ইন্টারনেটের ৮০ শতাংশেরও বেশি ট্র্যাফিক গুরুতর প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে।

স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস সিগন্যাল ব্যবহার করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট তৈরি হয়েছে।

মিয়ান গ্রুপের গবেষক আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে গবেষণা করছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।’

স্টারলিংকের ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদদের মতে, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসকে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ক্ষতি হচ্ছে।’

Share.
Exit mobile version