Wednesday, August 12

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাকে দুটি পৃথক অংশে ভাগ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী গাজার একাংশ হবে ‘গ্রিন জোন’, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অন্য অংশটি হবে ‘রেড জোন’, যেখানে কোনো ধরনের পুনর্গঠন বা উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হবে না।

মার্কিন সূত্র জানায়, গাজার বর্তমান ‘ইয়েলো লাইন’ ধরে এই বিভাজন করা হবে। তবে রেড জোনে কারা অবস্থান করবে বা সেখানে কোন ধরনের কার্যক্রম চলবে-তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘নীতিগতভাবে পুরো গাজাকে এক করা সম্ভব, কিন্তু এতে সময় লাগবে এবং জটিলতা থাকবে।’ মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এই পরিকল্পনার ফলে একটি ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে-যেখানে ফিলিস্তিনি প্রশাসন থাকবে না এবং ইসরাইলের হামলাও মাঝে মাঝে অব্যাহত থাকবে।

গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত ২০ দফা ‘শান্তি পরিকল্পনা’-র কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী (আইএএফ) এই বাহিনী গাজার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। মার্কিন প্রশাসন চাইছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত এই বাহিনীর অনুমোদন দিক।

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাজাফ্রি সাজামসোয়েদ্দিন জানিয়েছেন, দেশটি ইতোমধ্যে ২০ হাজার সৈন্য প্রস্তুত করেছে, যারা মূলত স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্গঠনে নিয়োজিত থাকবে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির এক মাস পরেও মানবিক পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। মিউনিসিপ্যাল ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭ লাখ টন কঠিন বর্জ্য জমে আছে, যা পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উপপ্রধান আলা আল-বাত্তা জানান, অবরোধ, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো ও জ্বালানি সংকটের কারণে পৌরসভার ন্যূনতম সেবাও চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি অভিযানে অবকাঠামো ধ্বংস, অবরোধ এবং সম্পদের সংকট গাজার মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

Share.
Exit mobile version