Tuesday, October 6

জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় আগামীকাল বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২২ দিন।

নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে প্রতি জেলে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল পাবেন। তবে জেলেদের দাবি, সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন নদীতে অভিযান চালানো হবে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ৫৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন। তারা মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জনকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ১১ হাজার ৮৫০ জেলেকে পর্যায়ক্রমে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ এলাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ। জেলেদেরও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ৪২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে ১৫৩ টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। তবে জেলেদের অভিযোগ, নিবন্ধিত জেলের তুলনায় সরকারি খাদ্যসহায়তার পরিমাণ কম। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে সঠিক তালিকা করে দ্রুত সব জেলেকে সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময়ে জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। এরপরও কেউ নদীতে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version