জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়েছে। মার্জনা চেয়ে করা তাদের আবেদন মঞ্জুর করে রাষ্ট্রপতি এ দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দিয়েছেন। পরে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
২০২৫ সালে এনবিআরকে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর বিরোধিতা করে ওই বছরের মে মাস থেকে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রায় দেড় মাস ধরে চলা আন্দোলন জুনের শেষ দিকে তীব্র আকার নেয়। একপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন শুল্ক ও কর কার্যালয়ে কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ হয়।
আন্দোলনের সময় কয়েকজন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। কেউ কেউ আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন এবং দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০এ বিধি এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড অবনমনসহ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা পরে দণ্ড মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদন পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করেন এবং দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
শাস্তি বাতিল হওয়া ২০ কর্মকর্তা
শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কমিশনার (চলতি দায়িত্বে) জাকির হোসেন; অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান ও সাধন কুমার কুণ্ডু।
এ ছাড়া যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান ও সানোয়ারুল কবির; উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও শাহাদাৎ জামিল এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর রয়েছেন।
যেভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন
২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির পর এর বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুনের শেষ দিকে অর্থবছরের শেষ সময়ে দেশের শুল্ক ও কর কার্যালয়গুলোতে কর্মবিরতি শুরু হলে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ চলে।
একপর্যায়ে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করা হয়। পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বদলি, সাময়িক বরখাস্ত ও অন্যান্য বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন রাষ্ট্রপতির আদেশে ২০ কর্মকর্তার সেই দণ্ডাদেশ বাতিল করা হলো।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ


