Monday, September 7

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি জানান, রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এতে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা কমবে।

সরকারি ঋণের সুদের হার ও পুনর্বিত্তায়নের ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের বাজার সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীর ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফার হার বাজার পরিস্থিতি ও প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে তুলনামূলক বেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সরকারের সামগ্রিক সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি করা যাবে।

অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এড়াতে একটি ‘বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা’ প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা

এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬-এর হিসাবে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে—৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ছয় রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version