Thursday, August 13

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদানেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও ব্যয় করা যাবে না। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন কেনা যাবে।

এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপিত সব জিপ ও কার অবশ্যই বৈদ্যুতিকচালিত হতে হবে।

পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণও বন্ধ থাকবে। তবে কোনো নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তা শেষ করার জন্য ব্যয় করা যাবে।

এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে।

উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা যেতে পারে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অর্থে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিদেশি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা, ফেলোশিপ কিংবা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল থাকবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের প্রতিটি খাতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version