Friday, November 6

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুই দফা রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দিশার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে দিশাকে বিভিন্ন কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ সাউরির সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান। এর আগে সন্ধ্যায় একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ খান। পরে মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে যান।

দিশা আরও জানান, ওই রাতে তিনি তাহসিফের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তার মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেন।

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরব থেকেছেন।

মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া বক্তব্যও পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হয়ে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত শনিবার কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর রবিবার দিশাকে প্রথম দফায় চার দিন এবং বুধবার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

অন্যদিকে দীপকে ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিন, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। নিজের মোটরসাইকেল নিয়েই তিনি বের হয়েছিলেন।

দীপ ২৯ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।

তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় দীপকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই তাহসিফের বাবা মামলা করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ। পরে গত শুক্রবার পিবিআই কর্মকর্তারা দীপকে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version