Friday, October 30

বিচার বিভাগের সামনে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এআই ব্যবহার করে রায় লেখা বা সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এআই মানুষের কণ্ঠ এমনভাবে নকল করতে পারবে, যা ভবিষ্যতে বিচারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচারকদের বিচারিক কাজে আরও দক্ষ ও সতর্ক হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলনকক্ষে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সহজ করার লক্ষ্যে ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, এর আগে ই-পারিবারিক আদালত চালু করা হয়েছে। সেটিকে আরও এগিয়ে নিতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরার বিষয়ে দেশে আইন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনতে হয়। এ জন্য যানবাহন ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনে বিপুল অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা গেলে বিচার বিভাগে আরেকটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। বিচার বিভাগকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার জায়গায় নিয়ে যেতে চায় সরকার। বিচারকরা ন্যায়বিচার করছেন না কিংবা বিচারিক কাজে দক্ষ নন—এমন ধারণা যেন মানুষের মধ্যে তৈরি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখের বেশি উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রায় ২ হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। এতে বিচারকদের ওপর অমানবিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মহানগরগুলোতে মামলার চাপ আরও বেশি। এসব জায়গায় দক্ষতা দেখাতে এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন—এমন বিচারকদের বাছাই করে পদায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো কর্মকর্তা সকাল ১১টার দিকে কাজে এসে দুপুর ২টা বা ৩টার মধ্যে চলে যান-এমন প্রতিবেদন তাঁদের কাছে রয়েছে। দায়িত্ব পালনে এ ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিচারক আয়েশি কর্মপদ্ধতিতে অভ্যস্ত হলে তাঁকে এমন জায়গায় পদায়ন করা হবে, যেখানে তিনি আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন—এমন মন্তব্যও করেন আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version