চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসেরও বেশি সময় কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে দেশে ফেরার পরও তার শারীরিক অবস্থায় পুরোপুরি স্বাভাবিকতা ফেরেনি। চিকিৎসার পরবর্তী ধাপের জন্য আগামী ১২ আগস্ট আবারও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে পারলেও ঝুঁকির কারণে পুরোপুরি তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি নেন এই অভিনেতা। সব মিলিয়ে তাকে প্রায় ১০০টি কেমো ও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দেশে ফেরার পর ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় আগের মতো স্বাভাবিকতা নেই বলে জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সহসভাপতি লিটন এরশাদ। তার ভাষ্য, ইলিয়াস কাঞ্চন অনেক পরিচিত মানুষকে চিনতে পারলেও অনেককে চিনতে পারছেন না।

পাশাপাশি অনেক কিছু মনে রাখতেও তার সমস্যা হচ্ছে।

লিটন এরশাদ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের চলাফেরার মধ্যে আর সেই স্বাভাবিক ব্যাপারটি নেই। অনেককে চেনেন, আবার অনেককেই চেনেন না। অনেক কিছুই মনে রাখতে পারেন না।’

তবে চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কেমোথেরাপির কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের মস্তিষ্কের টিউমারের আকার অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি শেষ হওয়ায় এখন চিকিৎসার পরবর্তী ধাপে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করানো হবে।

সম্প্রতি দেশে ফিরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ১১তম মহাসমাবেশে উপস্থিত হন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৩৩ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর বেদনাকে মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন তিনি। এখন এটি আর তার একার আন্দোলন নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে আগামী ১২ আগস্ট আবারও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version