দেশের পুঁজিবাজারে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সূচক, বাজার মূলধন ও লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চলমান সংস্কার উদ্যোগ এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কারণে বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুনের শেষ সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৭৪৪ পয়েন্ট। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ শেষে তা ৬০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
একই সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা।
লেনদেনেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে মোট লেনদেন ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা, যা চলতি সপ্তাহে প্রায় ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেনও ৯৫২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।
এদিকে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করা, বড় কোম্পানির ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ, মার্জিন ঋণ নীতিমালার সংশোধন, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু এবং বাজার তদারকি জোরদারের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

