Saturday, September 26

শহীদ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন; তাদের একমাত্র দাবি ন্যায়বিচার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি কালেক্টরেট চত্বরে তরুণদের নতুন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ’-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুমা হাদি বলেন, ‘আমার ভাই ওসমান হাদির হত্যার বিচার শুধু আমাদের পরিবারের দাবি নয়। যে রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্বের মাথায় গুলি লাগে, অথচ অপরাধীরা ধরা পড়ে না-সে রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করিনি, কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই। ইনসাফের কথা বলেছিলাম বলেই আমার ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে। নির্বাচনের আগেই এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম এ জলিল রচিত ‘অরক্ষিত স্বাধীনতা, পরাধীনতা’ বইটি নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ‘ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ’-এর ঘোষণাপত্র পাঠ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঝালকাঠির তরুণদের নিয়ে এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ইনসাফ ছাড়া রাষ্ট্র টেকে না, ন্যায়বিচার ছাড়া সমাজ সুস্থ থাকে না এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন স্থায়ী হয় না।

ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ’ কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয় এবং এটি কোনো ক্ষমতার মঞ্চও নয়। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এতে শহীদদের স্মরণ করে বিশেষভাবে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন মানুষকে হারানোর ঘটনা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি একটি গভীর প্রশ্ন।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে স্লোগান, ইসলামি সংগীত পরিবেশন এবং মুড়ি-বাতাসা বিতরণ করা হয়।

Share.
Exit mobile version