সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও এর গঠন কাঠামো-আগের মডেল নাকি জুলাই সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে, তা পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দেন। আদালত জানায়, এটি চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে।
রায়ের তাৎপর্য তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই রায়ের ফলে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। রাতের ভোটের পরিবর্তে দিনের ভোট হবে, মৃত মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। দেশ গণতন্ত্রের মহাসড়কে হাঁটা শুরু করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক গণতন্ত্রের ‘কবর রচনা’ করেছিলেন।
আপিল বিভাগ আগের রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও কলঙ্কিত’ উল্লেখ করে সম্পূর্ণ বাতিল করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আপিল ও সিভিল রিভিউ মঞ্জুর করা হয়েছে।
রায়ের ফলে সংবিধানের চতুর্দশ খণ্ডের ২-এ অধ্যায়ে থাকা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান—যা ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল-পুনরুজ্জীবিত হলো।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হলেও তা কার্যকর হবে তখনই, যখন পুনরুজ্জীবিত ৫৮খ(১) ও ৫৮গ(২) অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করা হবে। রায়টি অতীতে প্রযোজ্য হবে না, তবে ভবিষ্যতের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব থাকবে।
২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে আনার দাবিতে নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়। এ বছরের ২৭ আগস্ট রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। পরে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পরে প্রকাশ করা হবে।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
