দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। অন্যদিকে এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের ফল অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
ফল অনুযায়ী, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি ও জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক জয়ী হয়েছেন।
১৪টি হলের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী-ভিপি পদে ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭,২২১ ভোট, জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ৭,২৯৫ ভোট, এজিএস পদে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক পেয়েছেন ৬,৪৪১ ভোট।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বিভিন্ন অনুষদ ভবনে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়। এর আগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারের নির্বাচনে ২৭ হাজার ৫১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ১১ হাজার ১৫৬ জন।
এবারের নির্বাচনে ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে ৪১৫ জন এবং ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলের ২১০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪৯৩ জন প্রার্থী। কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ২৪ জন, জিএস পদে ২২ জন এবং এজিএস পদে ২২ জন প্রার্থী ছিলেন।
চাকসু নির্বাচনে মোট ১৩টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে ছিল-ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, ছাত্রদল প্যানেল, বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’,‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’, এবং ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’।
দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ
