বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তার মতে, তরুণ জনসংখ্যা, দ্রুত বাড়তে থাকা স্থানীয় বাজার এবং ব্যবসা সহজীকরণ উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ৮ দিনের ‘এসএমই পণ্য মেলা-২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘এসএমই শক্তি, দেশের অগ্রগতি’ স্লোগানে শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলার আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
বিডা চেয়ারম্যান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের আকার যুক্তরাজ্যের বাজারকেও ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দুর্বল থাকায় তারা বিনিয়োগে দ্বিধায় থাকে। এজন্য মোবাইল, লেদারসহ বিভিন্ন খাতে লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি দ্রুত গড়ে তুলতে হবে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে এখনো নানা জটিলতা ও দুর্নীতির সম্মুখীন হতে হয় উদ্যোক্তাদের। এই জটিলতা কমাতে বিডা ডিজিটাইজেশনের পথে হাঁটছে।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে যেখানে ব্যবসা নিবন্ধন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলা, অনুমোদন, বিভিন্ন সরকারি সেবা—সবই এক প্ল্যাটফর্মে হবে। এতে সময়, খরচ কমবে এবং দুর্নীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে ভোগান্তির শিকার হন। বিডা প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে।
এ সময় জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২৫ বিজয়ী ৬ জন মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তার হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।
এবার মেলায় অংশ নিয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ’ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বেশি ৭৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া হস্ত ও কারুশিল্পের ৫৪টি, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য খাতের ৪০টি, পাটজাত পণ্যের ৩৫টি, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের ২৮টি, শতরঞ্জি, বাঁশ বেত, হোগলা, সুপারিখোল, কাঠের ১৫টি, খাদপণ্যের ১৪টি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের ১৩টি, জুয়েলারি শিল্পের ৯টি, প্রসাধন খাতের ৭টি, তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাখাতের ৫টি, হারবাল বা ভেষজশিল্পের ৫টি, প্লাস্টিক পণ্যের ৫টি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স খাতের ৩টি, ফার্নিচার খাতের ৩টি এবং অন্যান্য খাতের ১১টি স্টল রয়েছে।
মেলায় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদানকারী শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৮টি দপ্তর সংস্থাসহ সরকারের প্রায় ১৫টি সংস্থা, প্রায় ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলার উদ্বোধন করেন শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমান।

