পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশে চালু হতে যাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪ জন নারীকে পরিবারপ্রধান স্বীকৃতি দিয়ে এই কার্ড দেওয়া হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । মন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেলে তা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের নিজ নিজ ভাতা পেতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, পাইলট পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, উপকারভোগী নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারভিত্তিক দারিদ্র্য সূচক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যাতে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে এবং ভাতা সরাসরি তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version