টেলিকম ও আইসিটি খাতে বর্তমান করহার ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত, যা বিশ্বে অন্যতম বেশি। এই উচ্চ করের প্রভাব সরাসরি গ্রাহকের ওপর পড়ছে। কর কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
তিনি বলেন-দেশের টেলিকম ও আইসিটি খাতে বিদ্যমান উচ্চ করের বোঝা কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জে গ্রাহক মাত্র ৬২ টাকার সেবা পাচ্ছেন, বাকি ৩৮ টাকা বিভিন্ন কর হিসেবে কেটে নেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের ওপর চাপ কমিয়ে সেবা আরও সাশ্রয়ী করা, পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে একাধিক ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক থাকায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে, যাতে সব অপারেটর সমান সুবিধা পায় এবং সেবার মান উন্নত হয়।
উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি হলো শক্তিশালী সংযোগব্যবস্থা। সড়ক ও বন্দর যেমন একটি দেশের বাণিজ্য চালাতে অপরিহার্য, তেমনি ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট অপরিহার্য। আগামী পাঁচ বছরে সরকারের আইসিটি খাতের উন্নয়ন তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর নির্ভর করবে—কানেক্টিভিটি, নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সেবা। এর মধ্যে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিক একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আসে।
ডিজিটাল ওয়ালেট ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার বিষয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে, যেখানে পরিচয়, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন সরকারি সেবা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণরা ইতোমধ্যে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও সাফল্য পাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন- তাদের জন্য প্রয়োজন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট এবং সহায়ক নীতিমালা। বর্তমানে আইসিটি ও টেলিকম খাত থেকে দেশের জিডিপিতে ২ থেকে ৪ শতাংশ অবদান আসছে, যা ভবিষ্যতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সব সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি আমিনুল হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ সংশ্লিষ্টরা।
সরকার মনে করছে, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে আইসিটি খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত-রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম এই ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত এ মেলায় অংশগ্রহণ করেছে দেশের বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং ব্র্যান্ডগুলো। এই এক্সপো চলবে ১৫ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

