শেয়ারবাজারের অন্যতম আলোচিত আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর প্রায় ৮৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করে ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত দিতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-কে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আত্মসাৎ করা অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলার অন্যতম ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী মো. আজিজার রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া তামহা সিকিউরিটিজ জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি বিও হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। প্রতিকার চেয়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানালে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। এরপর বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

আজিজার রহমান জানান, ডিএসই তাঁর পাওনা অর্থের একটি অংশ ফেরত দিলেও এখনো প্রায় ৪৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, তামহা সিকিউরিটিজ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণায় অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দুটি পৃথক ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করত। একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুয়া পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট দেখানো হতো, যাতে শেয়ার ও নগদ অবস্থান স্বাভাবিক মনে হয়। অন্য সফটওয়্যার দিয়ে গোপনে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো। ২০২১ সালের এক তদন্তে গ্রাহকদের মোট ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে এলে বিএসইসি তামহা সিকিউরিটিজের সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, তামহা সিকিউরিটিজের মতো জালিয়াতির ঘটনাগুলো শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট আরও গভীর করেছে। দ্রুত আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

তাঁদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শেয়ারবাজারের তারল্য সংকট মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ২০০৫ সালে ডিএসইতে নিবন্ধিত তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএসইসি ও ডিএসই কত দ্রুত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ভুক্তভোগীদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে পারে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version