ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটিতে ফিরে গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রী রণতরীটিকে সেখানে নোঙর করতে দেখেন।

জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই ঘাঁটি থেকে জ্বালানি ও রসদ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল রণতরীটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলায় ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এই রণতরীর প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পেন ওয়াশিংটনের গ্লোবাল পলিসি প্রোগ্রামের পরিচালক ড্যানিয়েল স্নাইডারম্যান বলেন, এটি যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সমর্থন কমার ইঙ্গিত দেয়। তবে সঙ্গে থাকা অন্যান্য প্রতিরক্ষা জাহাজ অবস্থান ধরে রাখলে তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে।

এদিকে দীর্ঘ ৯ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকার ফলে রণতরীটিতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত ১২ মার্চ জাহাজটির লন্ড্রি রুমে অগ্নিকাণ্ডে দুই নাবিক আহত হন এবং অভ্যন্তরীণ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া টয়লেট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ক্রুরা ভোগান্তিতে পড়েন।

মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের সমালোচনা করে বলেন, প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকায় রণতরী ও এর ক্রুরা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন।

এর আগে এই রণতরী ক্যারিবীয় সাগরে মাদকপাচার দমন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছিল।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version