মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগে পরাজয় স্বীকার না করলে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈদেশিক নীতি বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে শুধু পরাজয় স্বীকারই নয়, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে—তবেই আলোচনার পথ খুলতে পারে।

জানা গেছে, অন্তত দুটি দেশের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছিল। তবে মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনো তার কোনো সাম্প্রতিক ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি সামান্য আহত হন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার আপসহীন বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ২১ দিন সংলাপ চললেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়।

এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে থাকে। টানা ১৮ দিনের সংঘাতে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version