যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এতে তৈরি পোশাকসহ দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার পাশাপাশি নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও এ অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

এ ছাড়া দুই দেশের আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি অগ্রাধিকারকে সহায়তা করতে একটি নতুন ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থার প্রস্তাব উঠে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে উৎপাদিত বস্ত্রের বিপরীতে সমপরিমাণ (স্কয়ার মিটার ভিত্তিতে) তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সৃজনশীল ও পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এতে একদিকে বাংলাদেশের উৎপাদক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল উৎপাদকদের সঙ্গেও সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি নতুন ও আশাব্যঞ্জক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। সূত্র; বাসস।

Share.
Exit mobile version