ডিজিটাল যুগে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ জানায়, ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ব্যবহার ও তথ্যনির্ভর উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, স্থানান্তর ও বিনষ্টকরণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে।

অধ্যাদেশে মোট ৫৭টি ধারা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত উপাত্তের মালিকানা স্বয়ং উপাত্তধারীর হাতে থাকবে। উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে উপাত্তধারীর সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিশু বা সম্মতি দিতে অক্ষম ব্যক্তির তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবকের অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে।

সংবেদনশীল ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণে বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বার্থ, অপরাধ প্রতিরোধ, শিক্ষা ও গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সম্মতি ছাড়া তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

সরকার ব্যক্তিগত উপাত্তকে চারটি শ্রেণিতে বিভাজন করেছে—১. উন্মুক্ত, ২. অভ্যন্তরীণ,৩. গোপনীয়, এবং ৪. সীমাবদ্ধ।

অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘন, অননুমোদিত প্রবেশ বা তথ্যের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দণ্ড ও প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময় পরপর স্বতন্ত্র উপাত্ত নিরীক্ষক কর্তৃক উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের অডিট সম্পাদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উপাত্ত বিনিময় ও সংযুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইসিটি বিভাগ মনে করে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের গোপনীয়তা সুরক্ষা ও তথ্যনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

Share.
Exit mobile version